|

আপনার শিশু কি ঘুমাতে চায় না?

শিশুদের ঘুম নিয়ে অধিকাংশ বাবা-মা চিন্তিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নবজাতকরা ঘুমাতে চায় না। আদরের সন্তান না ঘুমালে মা বাবাও ঘুমাতে পারেন না। বাবা মাকে বাধ্য হয়ে রাত জাগতে হয়। যার ফলে পরদিন বাবা মায়ের কাজের ব্যাঘাত ঘটে। কেউ কেউ হয়তো সন্তানের কান্না থামাতে না পেরে অনেকটা রেগে যান। এটা অবশ্য ঠিক না। কিছু নিয়ম ও অভ্যস অনুসরণ করলে সন্তানের ঘুম নিয়ে বাবা মাকে নাজেহাল অবস্থায় পড়তে হয় না। জেনে নিন শিশু সন্তানকে ঘুম পাড়ানোর সহজ উপায়।

১. শিশুকে ঘুমানোর সঠিক সময় নির্ধারণ করে দিন। আপনি আপনার নবজাতক শিশুকে প্রতিদিন রাতে একই সময় ঘুমাতে নিয়ে যান। রোজ এক সময়ে ঘুম পাড়ালে এটি তাদের অভ্যাসে পরিণত হবে। তবে শিশুকে ঘুম পাড়াতে গিয়ে নিজে ভুলেও ফোন, ট্যাব কিংবা ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাবেন না।

২. শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে খুব কোমল হয়। তাদেরকে ঘুমের আগে আরামদায়ক অবস্থায় রাখুন। তাদের জন্য আরামদায়ক বিছানা নিশ্চিত করুন। আরামদায়ক পোশাক নিশ্চিত করুন।

৩. সব ধরনের ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া থেকে নিজে দূরে থাকুন এবং শিশুকেও দূরে রাখুন। কারণ ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকলে শিশুর ঘুমাতে না চাওয়াটা স্বাভাবিক।

৪. ঘুমের আগে শিশুকে পেট ভরে খেতে দেবেন না। তাহলে শিশুর ঘুমাতে অসুবিধা হবে। তবে ক্যালোরি, প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে দেবেন।

৫. শিশু ভয় পায় এমন অদ্ভূত কিংবা বিকলাঙ্গ প্রাণীর ছবি শিশুর শয়ন কক্ষ থেকে সরিয়ে ফেলুন। প্রয়োজনে শিশুকে কোলে নিয়ে দোল খাওয়াতে খাওয়াতে কিংবা দোলনায় দোল খেতে খেতে ঘুমানোর সুযোগ করে দিন।

৬. আপনার সন্তানের বয়স যদি ছয় থেকে এক বছরের বেশি হয় তাহলে ঘুমের সময় তার পাশে পুতুল রেখে দিন। দেখবেন আপনার সন্তান পুতুলকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে গেছে।

৭. সন্তানকে ঘুম পাড়ানোর জন্য গল্প, গান কিংবা কবিতা আশ্রয় নিতে পারেন। এটি খুব কার্যকরী পদ্ধতি। এভাবে রোজ গল্প, গান কিংবা কবিতা শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে যাওয়া তার অভ্যাসে পরিণত হবে।

৮. ঘুম পাড়ানোর জন্য আপনার সোনামনির পিঠে আলতো করে ছুঁয়ে দিন, হাত বুলিয়ে দিন। কেননা আলতো স্পর্শে শিশুদের ঘুম আসে।

৯. শিশু ঘুমানোর সঙ্গে সঙ্গে শয়নকক্ষ ছেড়ে চলে যাবেন না কিংবা শিশুর কাছ থেকে দূরে সরে যাবেন না। যদি দূরে সরে যান তাহলে শিশুর ঘুম ভেঙে যেতে পারে।

১০. শিশুকে ঘুম পাড়ানোর আগে তার ন্যাপকিন বদলাতে ভুলবেন না।

সংবাদটি 61 বার পঠিত
advertise