সিলেটে শহীদ নূর হোসেন ব্লকের প্রীতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট সম্পন্ন

মো. ওলিউর রহমান :: শিক্ষা, শান্তি, প্রগতির ধারক-বাহক, দেশের প্রাচীন সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একটি ঐতিহ্যবাহী ছাত্রসংগঠন হলেও নানা অপকর্মের কারণে বিভিন্ন সময় নেতিবাচকভাবে খবরের শিরোনাম হয়। চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি, খুনখারাবি, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাতসহ বিভিন্ন কারণে আড়াল হয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সংগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য।

১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের অ্যাসেম্বলি হলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এর নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন অধিকার সংক্রান্ত আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, বাংলা ভাষা আন্দোলন, শিক্ষার অধিকার, বাঙালির স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা, গণঅভ্যুত্থান, স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলন। কিন্তু পঁচাত্তরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কব্জায় নিয়ে প্রগতির চাকাকে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দেয়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা ও মূল্যবোধকে বিকৃত করে ও প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তোলে দিয়ে ছাত্ররাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করার যে সংস্কৃতি চালু করা হয় তা থেকে ছাত্ররাজনীতি এখনো মুক্ত হতে পারেনি। যে কারণে শিক্ষা, শান্তি, প্রগতির ধারক-বাহক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগও নানা অপকর্মের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপিত হয়। ছাত্রলীগ নামধারীদের অপকর্মের কারণে ক্ষুন্ন হয় সংগঠনটির সুনাম। কিন্তু গতকাল অন্যরকম এক চর্চা করতে দেখা গেল ছাত্রলীগকে। সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে দিনব্যাপী দলটির সাবেক এবং বর্তমান নেতাকর্মীরা মেতে ছিলেন প্রীতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নিয়ে।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব, ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ শরীরে লেখা নিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ নূর হোসেনের নামে গঠিত ‘শহীদ নূর হোসেন বøক’র উদ্যোগে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। যার পৃষ্টপোষকতায় ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি-সম্পাদক, বর্তমানে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। এই আয়োজনের মধ্যে দিয়ে সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদন চর্চা, ভ্রাতৃত্ববোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হবে বলে মনে করেন এর সাথে সংশ্লিষ্টরা।

দিনব্যাপী এই ক্রিকেটীয় লড়াইয়ে অংশ নেন- আব্দুল লতিফ রিপন, শামসুল ইসলাম মিলন, সালেহ আহমদ লিমন, কয়েস আহমদ, জুমাদিন আহমদ, শোয়েব আহমদ, ফারুকুল ইসলাম ফারুক, ইউসুফ আহমদ, মুহিবুর রহমান মুন্না, ইকলাল আহমদ, রাহাত হোসেন চৌধুরী রাজু, হেলাল আহমদ, অপু জামান, আনোয়ার কুরাইশী, শামীম আহমদ, আরিফ আহমদ সুমন, আবুল কাশেম, দুলাল রাজ, রেজাউল ইসলাম টিটু, সাইফুল আলম সিদ্দিকী টিপু, অ্যাডভোকেট ইকরামুল হাসান শিরু, রাহাত তরফদার, জিয়াউল হক জিয়া, রুহেল তরফদার, মোঃ আলী কামাল সুমন, অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান সুমন, আশরাফ সিদ্দিকী, ফয়েজ উদ্দীন পলাশ, সাইফুদ্দীন আহমদ সাবের, সামন্ত ধর, শাহরিয়ার বখত সাজু, আলী বাহার, মজিদূর রহমান মজিদ, সোহেল আহমদ অনিক, মাসুম আহমদ, এহিয়া আহমদ সুমন, আবু সুফিয়ান, শাহ আলম, মামুনুর রশীদ মামুন, ইমরান আহমদ, আব্দুল বাসিত রুম্মান, ইমদাদুল হক জাহেদ, নাঈম চৌধুরী, ফুজায়েল আহমদ জনি, শাফায়াত খান, বদরুল ইসলাম, শাহ মওদুদ আলী, রানা আহমদ, জুবায়ের আহমদ, জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুল হালিম চৌধুরী জেনিথ, মামুনুর রশীদ, লায়েক আহমদ জিকো, শাহ মুদাব্বীর আহমদ বাপ্পী, সুমন তালুকদার, রঞ্জন রায়।

শহীদ নূর হোসেন ব্লকের মধ্যে ৪টি দলে (লাল দল, নীল দল, সবুজ দল, হলুদ দল) ভাগ হয়ে মাঠে নামেন সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। প্রীতি টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় সবুজ দল। সময় স্বল্পতার জন্য কমিয়ে নিয়ে আসা ম্যাচে ৮ ওভারে নীল দল করে ৫৭/৮ রান। জবাবে বিনা উইকেটে সবুজ দল ৪/১ ওভারে ৬০/০ রান তুলে জয়লাভ করে। ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন আব্দুল বাছিত রুম্মান, ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হন সাইফুদ্দীন আহমদ  ছাবের।

খেলায় চ্যাম্পিয়ন দলকে ট্রফি ও প্রত্যেক খেলোয়াড়কে শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল স্বাক্ষরিত ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ এবং রানারআপ দলকে ট্রফি এবং প্রত্যেক খেলোয়াড়কে শেখ হাসিনার লেখা বই ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ তুলে দেওয়া হয়।

দিনব্যাপী এই ব্যতিক্রমধর্মী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক, বিসিবি উইমেন্স উইংয়ের চেয়ারম্যান ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সিসিক কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছ, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহŸায়ক সাইফুর রহমান খোকন, জগন্নাথপুর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদির আহমদ মুক্তা, আওয়ামী লীগ নেতা আলম আহমদ, ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আহমদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রায়হান চৌধুরীসহ অনেকে।

ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন জুবেদ খান ও নাসির খান। স্কোরারের দায়িত্ব পালন করেন তানজীল শাহরিয়ার অলী। ধারাভাষ্যে ছিলেন জিয়াউল হক জিয়া।

You May Also Like