ধোপাজান নদীতে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ

ফরিদ মিয়া সুনামগঞ্জ থেকে::

সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাধীন ধোপাজান চলতি নদীতে চাঁদাবাজিবন্ধের দাবিতে  অনির্দিষ্টকালের জন্য বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেন বালুপাথর ব্যাবসায়ি সমিতি। তার প্রেক্ষিতে হাজার হাজার বালু-পাথর শ্রমিকএখন  বেকার দিনপাত কাটাচ্চে। ধোপাজান চলতি নদীতে ভলগেট প্রবেশ না করায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকার ডাম্পিং করা বালু-পাথর বিক্রিএকন বন্ধ। এ ঘটনায় ধোপাজান চলতি নদীতে অবৈধ চাঁদাবাজদের দায়ী করছেন বালুপাথর ব্যাবসায়ি সমিতি।

সোমবার সকালে পুরান মথুর কান্দি মসজিদ মাঠে বালুপাথর ব্যাবসায়িদের সভাঅনুষ্ঠিত হয়। ধোপাজান চলতি নদীতে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে সোমবার সকাল থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। প্রতিবাদ সভায় বক্তার বলেনসদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাধীন ধোপাজান চলতি নদীতে অবৈধ চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে  সোমবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সভায় অবৈধ চাঁদাবাজদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।

অপরদিকে, সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর গ্রামের বালু-পাথর ব্যবসায়ীরা ধোপাজান চলতি নদীতে ভলগেট ও কার্গো প্রবেশ বন্ধের দাবিতে সোমবার সকালে জালখালি এলাকায় সভার আয়োজন করেন।

পরে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির আশংকা থাকায় সভা পণ্ড করে দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় শহরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় সভা করেন ব্যবসায়ীরা। সভা শেষে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারক লিপি দেন তাঁরা।

বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ব্যবসায়ী মহরম আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সলুকাবাদ ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী এখলাছুর রহমান,

ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান নাজিম, নুরে আলম সিদ্দিকী, সাবেক ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম ফুল মিয়া, আব্দুল আজিজ, রামপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম, জিনারপুর গ্রামের ফারুক হোসেন, বাঘবেড় গ্রামের বাদল মিয়া,

পুরান মথুরকান্দির আব্দুর রশিদ, জাহাঙ্গীরনগর ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম মানিক, ব্যবসায়ী শুকুর আলী, জমির আলী, কাইয়ারগাঁওয়ের আব্দুল হামিদ, মকবুল হোসেন, আজগর আলী, ইসমাইল হোসেন, আওয়াল মিয়া, ইকবাল হোসেন, আনোয়ার হোসেন, এরশাদ মিয়া।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে মহরম আলী বলেন,‘সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর, সদরগড়, হুড়ারকান্দা, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ভাদেরটেক গ্রামের কতিপয় ব্যক্তিরা ধোপাজান চলতি নদীতে অবৈধ চাঁদা আদায়ের কারণে বাইরে থেকে আসা ভলগেটের মালিকেরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছেন।

তাদের দাবিকৃত চাঁদা না দিলে শারীরিকভাবে ও নির্যাতন করে এসব চাঁদাবাজরা। এতে আমাদের ডাম্পিং করা প্রায় ২৫০ কোটি টাকার বালু-পাথর বিক্রি করতে আমরা মারাত্মক সমস্যায় পড়েছি।

তিনি বলেন,‘বালু-পাথরের ব্যবসায়ীরা সরকারী-বেসরকারী ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে এবং জমি বন্ধক দিয়ে টাকা সংগ্রহ করে ধোপাজান চলতি নদীরপাড়ে বালু-পাথর ডাম্পিং করেছেন। এখন এই বালু-পাথর সময়মত বিক্রি না করতে পারলে বর্ষায় পাহাড়ি ঢলে সকল বালু-পাথর ভেসে মিশে যাবে নদীতে। তখন পথে বসতে হবে সকল ব্যবসায়ীদের।’

সভায় বক্তারা বলেন,‘ধোপাজান চলতি নদীর মুখে ঝালখালি এলাকায় প্রবেশের সাথে সাথে ভলগেট আটকে চাঁদাবাজরা হাজার হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে বসে। ভলগেট নদীতে প্রবেশ না করলে বালু-পাথর বিক্রি করা যাবে না।

 

নদীতে বালু-পাথর উত্তোলনকারী হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে। উন্নয়ন ব্যাহত হবে। তিনি স্তানিয় প্রশাসনের প্রতি অনুরুধ জানিয়ে বলেন ব্যাবসায়িদের পিঠ দেয়ালে টেখেগেছে যদি বাপ দাদার জায়গায় ব্যাবসা করতে পারিনা তা হলে  তা হলে কঠিন আন্দোলনের মাধ্যমে চাঁদাবাজদের বিরোদ্ধে প্রতিরোধ গরে তোলা হবে।

You May Also Like