অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে বিশ্বনাথ-রশিদপুর প্রশস্থকরণ কাজ পরিদর্শনে নুনু মিয়া

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি।।  প্রায় ৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে চলমান বিশ্বনাথ-রশিদপুর সড়ক প্রশস্থকরণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দূর্নীতি হচ্ছে এলাকাবাসীর কাজ থেকে এমন শতাধিক অভিযোগ পেয়ে তা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য এস এম নুনু মিয়া। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে বিশ্বনাথ-রশিদপুর সড়ক প্রশস্থকরণ কাজ পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি এলাকাবাসীর সকল অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন মর্মেও জানান সাংবাদিকদের।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিশ্বনাথ-রশিদপুর সড়কের পাশে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন এসব প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীরা পায়ে হেঁটে স্কুলে যায়। কিন্তু চলমান প্রসস্থকরণ কাজের সময় কোন প্রকার ফুটপাত না রেখেই ও সড়কে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি না সরিয়েই কাজ শেষ করার পায়তারা করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জামিল ইকবাল লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। আর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এসব অনিয়ম-দূর্নীতি দেখেও না দেখার ভাব করে বসে আসে সড়ক ও জনপদ (সওজ) কর্তৃপক্ষ। অথচ কাজের শিডিউলে রয়েছে সড়কের দুই পাশে থাকা গাছ-বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে সড়কটির দুই পাশেই ৩ ফুট করে প্রশস্থ ফুটপাত রেখে সড়কের প্রশস্থকরণ করার কথা। আর শুরু হওয়া প্রাথমিক কার্পেটিং কাজের ব্যাপারেও ব্যাপক অনিয়ন-দূর্নীতির অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী আরোও অভিযোগ করে বলেন, বিশ্বনাথ-রশিদপুর সড়ক প্রশস্থকরণ কাজের ধরণ দেখলে মনে হয় যেনো সড়কের কি হলো বা না হলো তাতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জামিল ইকবাল লিমিটেড কিংবা সড়ক ও জনপদ (সওজ) কর্তৃপক্ষের কিছু আসে যায় না। দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সত্ত্বাধিকারী যেনো আছেন কিভাবে অত্যান্ত সু-কৌশলে সড়ক প্রশস্থকরণ কাজের বরাদ্ধের বিশাল অংশের টাকা দিয়ে কিভাবে নিজেদের পকেট ভারী করা যায় সেই চিন্তা-ভাবনায় রয়েছেন। সরকারের গ্রহণ করা প্রকল্পটির কাজ সঠিকভাবে হলে এলাকাবাসী এখনও সুষ্টভাবে কাজ সম্পন্ন করার দাবীতে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হতো না।
এলাকাবাসীর অভিযোগের সত্যাতা পাওয়ার কথা স্বীকার করে পরিদর্শন শেষে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য এস এম নুনু মিয়া সাংবাদিকদেরকে বলেন, সড়কের দুই পাশের গাছগুলো কর্তন করা হলেও বৈদ্যুতিক খুঁটি এখনও বহাল রয়েছে এবং সড়কের ৯৫% অংশে ১ ফুটের মতো পরিমাণ জায়গাও মানুষ চলাচলের জন্য ফুটপাত নেই। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কের দুই পাশ থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরাতে হবে ও সড়কের দুই পাশে ৩ ফুট করে ফুটপাত প্রশস্থকরণ করতে হবে এলাকাবাসীর জানমালের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে।
পরিদর্শনকালে উপজেলা বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম নুনু মিয়ার সাথে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সেলিম আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক শাহ ফয়েজ আহমদ সেবুল, দপ্তর সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম সাহিদ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ নূর, যুবলীগ নেতা লিটন মিয়া, মহানগর ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান ফয়েজ, সাফায়েত হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শাহ বোরহান আহমদ রুবেল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

You May Also Like