আঘাত করে আবিদার দেহের কাপড় খুলে ফেলে তানভীর

সাত্তার আজাদ :: আইনজীবী আবিদা সুলতানার পিত্রালয়ে ভাড়া থাকতেন ইমাম তানভির আলমের পরিবার। কিছুদিন ধরে আবিদা ইমামকে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তানভিরের বাড়ি ছাড়ছিলেন না। এনিয়ে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়।

ঘটনার দিন তানভীরের সাথে আইনজীবীর কথাকাটাকাটি হয়। পরে তানভির ক্ষোভে আইজীবীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এক পর্যায়ে পানির ফিল্টারের পাথর দিয়ে আঘাত করায় আবিদার মৃত্যু হয়ে যায়।

শনিবার মৌলভীবাজার মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলাম।
৩১শে মে বড়লেখা সিনিয়র জুডিসিয়াল আদালতে তানভির বিষয়টি নিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এই হত্যার সাথে শুধু তানভীরই জড়িত। ঘটনার দিন ২৬ মে তানভির বাড়িতে একা ছিল। তার মা ও স্ত্রী বাহিরে ছিলেন।

পুলিশ জানায়, আবিদা নাকি তানভিরকে বলেছিলেন তার লুঙ্গি খুলে ফেলবেন। এই কথার ক্ষোভ থেকেই তানভির আবিদাকে আঘাত করার পর নারী আইনজীবীর শরীর থেকে কাপড় খুলে ফেলে। তবে ধর্ষণের কোন আলামত তদন্ত ও মেডিকেল কিংবা তানভিরও স্বীকারোক্তি দেয়নি। এঘটনার সাথে পরিবারের অন্য কেউ জড়িত নয়।

ঘটনার দিন সকাল ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে আবিদাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপির মাধবগুল গ্রামের প্রয়াত আব্দুল কাইয়ুমের তিন মেয়ে। তার স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন। তিনি দ্বিতীয় মেয়ের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারে থাকেন।

মেয়েদের মধ্যে আবিদা সুলতানা (৩৫) সবার বড়। তিনি মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী।

আবিদার স্বামী মো. শরিফুল ইসলাম বসুনিয়া একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। তিনি স্বামীর সঙ্গে মৌলভীবাজার শহরে বসবাস করতেন। ছুটির দিনে প্রায়ই পৈতৃক বাড়ি দেখাশোনা করতে যেতেন আবিদা।

তিনি চাচ্ছিলেন না যে তানভীর তার পিত্রালয়ে থাকে। কারণ সে তাদের বাড়ির গাছপালা বিক্রিসহ অনেক ক্ষতি করে ছিল।

উল্লেখ্য, ২৬ মে রাত ১০টার দিকে পুলিশ ঘরের দরজা খুলে তার পিত্রালয় থেকে আবিদা সুলতানার মৃতদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ ওই দিন রাতেই তানভীর আলমের স্ত্রী ও মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। আর পরদিন তানভীরকেও আটক করে। তানভীর স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন। তাদের বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জে। তারা আবিদাদের আত্মীয় হয়।