যুক্তরাজ্যের ওভাল।।লন্ডন নাকি বাংলাদেশ?

সিলেটকে দ্বিতীয় ইংল্যান্ড হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। কারণ হলো সিলেটের বেশি সংখ্যক লোক বিদেশ যেতে হলে ইংল্যান্ডকেই বেছে নেয়। হোক চাকরি, ভিজিট বা পড়ালেখা। শুধু তাই নয় ওই দেশের রাজনীতিতেও সিলেটিরা একটি বিরাট ভূমিকা পালন করে আসছেন। কেউ ছুটছেন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ বলে। কেউ ছুটছেন সাকিব সাকিব বলে। গ্যালারি তামিম, সৌম্য, মুশফিক ধ্বনিতে প্রকম্পিত। লন্ডন নাকি বাংলাদেশ?

কোনোভাবেই মনে হচ্ছে না দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে লন্ডনের ওভাল স্টেডিয়ামে খেলা হচ্ছে। মনে হওয়ার কথাও না। গতকাল সকালে স্টেডিয়ামে ঢোকার আগেই শোনা গেলো সব টিকিট শেষ। বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। যার বেশির ভাগই কিনে নিয়েছেন ইংল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশকে সমর্থন দিতে ছুটে এসেছেন মাঠে। কারো হাতে পতাকা।

কারো হাতে বাঘ। কেউবা পড়েছেন বাঘের পোশাক। খেলা শুরু হতেই গোটা ওভালই চলে গেলো টাইগার সমর্থকদের দখলে। মাঠেই দেখা হলো সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের সঙ্গে। ২০০৭ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় এসেছিল তার হাত ধরেই। আজ ফের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে টাইগারদের প্রথম প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। এতো সমর্থক দেখে সুমন বলেন, ‘সত্যি অভিভূত। আমরা জানতাম এখানে বাংলাদেশের সমর্থন পাবো। তবে এতটা পাবো ভাবিনি। দেখে মনে হচ্ছে এটাই বাংলাদেশ।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক কাজী এনাম আহমেদও এসেছেন বাংলাদেশের খেলা দেখতে। তিনি বিসিবি পরিচালকের চেয়ে দেশের ক্রিকেটের সমর্থক ও ভক্ত হিসেবে এসেছেন বলেই জানালেন। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমি বাংলাদেশ ক্রিকেটের দারুণ ভক্ত। আমার বিসিবি পরিচালক পরিচয় পরে। আমি অবশ্য চাই আজ বাংলাদেশ দারুণ খেলে শুরু করুক। যেন এখানে এত কষ্ট করে আসা দর্শকরা খুশি মনে বাসায় ফিরতে পারেন।’

এছাড়াও ম্যাচ নিয়ে হাবিবুল বাশার বলেন, ‘২০০৭ এ আমাদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা দল। সেখানেই আমরা জিতেছি। আর ক্রিকেট এমন যে এখানে একটি নির্দিষ্ট দিন নিয়ে কিছুই বলা যায় না। বাংলাদেশ দল এখন অনেক বেশি শক্তিশালী।

লন্ডনে স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকেই বাংলাদেশের পতাকা হাতে মানুষের ভিড়। ট্রেন, বাস যার যেভাবে সম্ভব সবারই গন্তব্য ওভাল স্টেডিয়াম। বেশির ভাগ টাইগারভক্তের দেখা মিললো ট্রেনে। এর মধ্যে, ফরহাদ, সুজন, সুমন, হাবিব, মিরাজ ছুটছিলেন মাঠের দিকে। বাংলাদেশের সংবাদকর্মী পরিচয় পেয়ে বললেন, গাড়িতে নয়, ট্রেনে চলেন দেখবেন কত দর্শক মাঠে যাচ্ছে। তাদের পিছনে পিছনে যাত্রা শুরু পাতাল ট্রেনে। সেখানে উঠেও ভিমড়ি খাওয়ার মত অবস্থা। প্রায় সব সিটই দখল করে আছে লাল সবুজ জার্সি পড়া টাইগারভক্তরা।

ট্রেনে এমন লাল সবুজের মিছিল দেখে খাটি ইংলিশরাও ভীষণ খুশি। বার বার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের জন্য সবাইকে শুভকামনা জানাচ্ছিলেন। কেউ কেউ বলেন, ‘আশা করি বাংলাদেশ আজ জিতবে।’ লন্ডনে দীর্ঘদিন বসবাস করা মোস্তাফিজুর রহমান রকি ম্যাচ দেখে ভীষণ খুশি। বিশেষ করে মুশফিকুর ও সাকিব আল হাসানের ব্যাটিং দেখে তিনি বলেন, ‘আমাদের কষ্ট করে আসাটা সার্থক। সাকিব-মুশফিক দারুণ ব্যাট করছে।’

গতকাল লন্ডনে ছিল ছুটির দিন। আর বেশির ভাগ টাইগার সমর্থকই এসেছেন পরিবার নিয়ে। এছাড়াও পাওয়া গেলো এখানে পড়তে আসা বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রীকে। তাদের মধ্যে ফারহা বলেন, ‘আমি এখানে এক বছর হলো পড়তে এসেছি। যখন শুনলাম বাংলাদেশ এখানে খেলবে তখন থেকেই টিকিট সংগ্রহ করতে শুরু করি। আমরা চাই বাংলাদেশ দল ফাইনালে খেলুক।

You May Also Like