শিল্পের কারিগর বাবুইপাখি

➡পাখি নয় এ যেন এক শিল্পের শিল্পী বাবুই, তার প্রতিটি বাসা যেন একেকটি শিল্পকর্ম। পরম ধৈর্য্যে নিপুণ বুননে একেকটি বাসা বুনে বাবই পাখিরা। নারী বাবইয়ের কাছে নিজের যোগ্যতার পরিক্ষা দেয় পুরুষ বাবই।

 

কারণ বাসা পছন্দ না হলে নারী বাবইটি তাকে ছেড়ে চলে যাবে। এভাবেই তাল, নারিকেলের পাতায় দুল খেতে খেতে চলে বাবইয়ের সংসার।

 

বাবই পাখির বাসা যেন সুনিপুণ একটি শিল্পকর্ম, হুগলা পাতা, নল খাগরা কিংবা নারিকেলের লম্বা পাতা চিকন করে চিরে টানা প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন ধরে একেকটি বাসা বুনে পুরুষ বাবই পাখিরা।

 

তারপর পুরুষ বাবই খুজতে শুরু করে একটা সংগিনি, সুরে সুরে তখন সেই সংগিনিকে ডাকতে শুরু করে পুরুষ বাবই, আর তার ডাকে সারা দেয় নারী বাবই, তার পর পরিক্ষার মুখোমুখি হতে হয় পুরুষ বাবইকে, কারণ একটা নারী বাবই পুরুষ বাবইয়ের বাসাটুকু কতটা নিরাপদ সেটাই আগে নিশ্চিত হয় ।

 

পছন্দ না হলে আবার নতুন বাসা বুনতে হয় পুরুষ বাবইকে। আর যা বানাতে লাগবে আরো ২০ দিন। বাবই পাখির বাসা আসলে একটি অতন্ত্য এন্টি গ্রেবিটেশনাল লাইট ওয়েট একটি কন্সট্রাকশন। তাদের বাসাটি এমন ভাবে তৈরি করে এ যেন দুই রোমের একটি বাড়ী।

 

একটি অংশে থাকে ডিম/ছানা আর অন্য অংশে যাওয়া আসার একটি সরু পথ। বৃষ্টি আর ঝড়বাদল থেকে বাচতে বাসার চার পাশে ওরা লেপটে দেয় কাদামাটি, সে কারণে বাসার ভেতরে বাইরের আলো, বাতাস, বৃষ্টির পানি প্রবেশ করতে পারে না।

 

বাসা তৈরির কাজ যখন শেষ হয় নারী বাবইকে নিয়ে সংসার বাদে ওরা, ডিম পারার পর আসে নতুন শিশু আর ঠিক তখনই বাড়ী ছাড়ে পুরুষ বাবইটি।

 

তারপর ছুটে যায় নতুন সংগির খুঁজে আবারো বাসা বুনে পুরুষ বাবইটি। মজার ব্যাপার হচ্ছে এভাবেই প্রতিটি সিজনে ৬ টি বাসা বুনে ৬ সংগিনিকে নিয়ে সংসার করে চলে পুরুষ বাবই জীবন। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে এই শিল্পের কারিগর নামে খ্যাত বাবই পাখি।