সিগারেটের দাম বাড়ায় খুশি নারীরা

খোররা সিগারেট ঠিকই খাবে। শুধু শুধু বাড়ল সংসারের বাড়তি খরচ। এমনটাই মন্তব্য রিতা জামান নামের এক নারীর। দেশের ৪৮তম বাজেট ঘোষণার পর নিজের হতাশা ব্যক্ত করে ফেসবুকে এমন মন্তব্য করেন ওই নারী। তার কথায় লাইক, কমেন্ট করে সায়ও দিয়েছেন অনেকে।

রিতার মতে সিগারেটের দাম না বেড়ে বরং এর উৎপাদন এবং বিক্রি বন্ধ হলে বেশি ভালো হতো।

শুধু রিতাই না একই ধরণের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন পুরান ঢাকার বংশালের বাসিন্দা মায়েশা নামের অপর এক নারী। তিনি জানান, বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সিগারেটের অভ্যাস ছাড়ানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন তিনি। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। তবে, কিছুটা আশাও দেখছেন মায়েশা।

সিগারেটের দাম বাড়ার পর মায়েশার স্বামী সিগারেট ছাড়তে কিছুটা পরোক্ষভাবে সায় দিয়েছে। আর এতেই খুশি মায়েশা।

মায়েশা বলেন, সংসারে সিগারেটের বাড়তি খরচ কমাতে এবার স্বামীকে কড়া করে বলে দিয়েছি। তাকে এটা ছাড়তেই হবে। দাম আরও বাড়ালে আরও ভালো হতো।

শুধু মায়েশা বা রিতাই না সিগারেট, বিড়ি ও তামাকজাত পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির পর একে স্বাগত জানিয়েছেন অনেক নারী। তবে কারো কারো মতে একেবারে উৎপাদন এবং বিপণন বন্ধ করে দিলে সবচেয়ে ভালো হতো।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তার জীবনের প্রথম বাজেট পেশ করেন বৃহস্পতিবার (১৩ জুন)। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের প্রথম এই বাজেটে সিগারেটের নিম্নস্তরের ১০ শলাকার দাম ৩৭ টাকা এবং ৫৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। মধ্যম স্তরের ১০ শলাকার দাম ৬৩ টাকা এবং ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের প্রস্তাব করা হয়েছে। উচ্চস্তরের ১০ শলাকার দাম ৯৩ টাকা ও ১২৩ টাকা এবং ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

যন্ত্রের সাহায্য ব্যতীত হাতে তৈরি ফিল্টারবিহীন বিড়ির ২৫ শলাকার দাম ১৪ টাকা এবং ৩৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফিল্টার সংযুক্ত বিড়ির ২০ শলাকার দাম ১৭ টাকা ও ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিড়ি-সিগারেটের মতো ভয়াবহ আরেকটি পণ্য জর্দা ও গুল। এগুলোর ব্যবহার সরাসরি হওয়ায় শরীরের ওপর এর বিরূপ প্রভাবও বেশি। এর ব্যবহার কমানোর জন্য প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার দাম ৩০ টাকা ও ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের দাম ১৫ টাকা এবং ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণের জন্য বাজেটে প্রস্তাব করা হয়েছে।