ব্যাটিংয়ে যাওয়ার সময় নার্ভাস ছিলেন লিটন

চলমান দ্বাদশ বিশ্বকাপে সাফল্যের তুঙ্গে রয়েছে টিম বাংলাদেশ। সোমবারের ম্যাচে টার্গেট ছিল বিশাল। তবুও সেমির আশা বাঁচিয়ে রাখার জন্য ঝড়ো ইনিংস খেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে বিশাল জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

এমন একটা জয়ই দরকার ছিল। শুধু সেমির আশা বাঁচিয়ে রাখার জন্যই নয়, দলের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার জন্যও। টাউন্টনে এদিন দাঁতে দাঁত চেপে নেমেছিল টাইগাররা। সমর্থকরাও বসে ছিলেন তীর্থের মতো। শেষ পর্যন্ত হতাশ করেননি সাকিব-লিটনরা। বাংলাদেশের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ হয়ে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন বিশ্বের অনেক কিংবদন্তি।

বিশ্বকাপে ৫ম ম্যাচে সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করেছিলেন লিটন। তবে প্রথম ম্যাচেই ভিন্ন অভিজ্ঞতার শিকার হয়ে ‘নার্ভাস’ ছিলেন এই তরুণ ব্যাটসম্যান। দলকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন লিটন। সেই সাথে সাকিবের সাথে ব্যাটিং করার অভিজ্ঞতার কথাও জানালেন লিটন।

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ এক ইনিংস খেলেন লিটন। তারপরও ফাইনালে জায়গা হয়নি লিটনের। বিশ্বকাপের আগে ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও দারুণ এক ইনিংস খেলেন লিটন। এরপরও বিশ্বকাপের মূল ম্যাচের প্রথম তিনটিতে জায়গা হয়নি লিটনের। অবশেষে বিশ্বকাপের মত বড় মঞ্চে নিজের অভিষেক ম্যাচে স্মরণীয় করে রেখেছেন লিটন।

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে অধিকাংশ ম্যাচে ওপেনিং করলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাঁচে ব্যাট করতে নামেন লিটন। পাঁচে নেমেই ৬৯ বলে ৯৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। নতুন এ অভিজ্ঞতায় নার্ভাস ছিলেন লিটন। ম্যাচ শেষে এসব জানান তিনি।

লিটন বলেন, ‘ব্যাটিংয়ে যাওয়ার সময় নার্ভাস ছিলাম। মিডল অর্ডারে খেলার অভ্যাস খুব একটা নেই। যেহেতু টিম ম্যানেজমেন্ট আমাকে সুযোগ দিয়েছে। আমি মনে করেছি এই সুযোগটা কাজে লাগানো উচিত। তবে আমি নার্ভাস ছিলাম। সাকিব ভাই আমাকে সাহায্য করেছে। খেলার মাঝখানে অনেক কথা-বার্তা বলেছে, যেগুলো আমার চাপ কমাতে ভূমিকা রেখেছে।’

তামিমের বিদায়ের পরেই আউট হন মুশফিক। ১৩৩ রানে তিন উইকেট পড়াতে শুরুতে একটু নড়বড়ে ছিলেন লিটন। সেটিও স্বীকার করে নিলেন এ তরুণ ব্যাটসম্যান।

লিটন আরও বলেন, ‘৩০ রান করার পর আমি নিজের মতো ব্যাটিং করতে পেরেছি। আগেই বলেছি আমি সবকিছুতে নার্ভাস ছিলাম। ৩০ রান করার পর আমার মনে হয়েছে, এই উইকেটে আমি রান করতে পারব। এর আগে আমি ঠিক মতো ব্যাটিং করতে পারছিলাম না। ৩০ রান হওয়ার পর সাবলীল খেলতে পেরেছি।