বিকাশ-রকেটে ব্যালেন্স দেখা যাবে বিনামূল্যেই

বাংলাদেশের ব্যাংকিং বিপ্লবে বিকাশ এবং রকেট হল অনন্য অবদান রাখা দুটি মোবাইল ব্যাংকিং ব্র্যান্ড। মুহূর্তেই দেশের যেকোন প্রান্তে টাকা পয়সা লেনদেন করা এখন অনেক সহজ। কয়েক বছর পূর্বে যখন কাউকে টাকা পাঠাতে কিংবা তুলতে যখন ব্যাংকে গিয়ে লাইন ধরে প্রচুর সময় নষ্ট করতে হতো। মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধার বদৌলতে এখন চিত্র পুরোটাই ভিন্ন। টাকা পাঠানো এখন ২-১ মিনিটের ব্যাপার মাত্র। আর টাকা তুলতেও যেতে হয় না শহরের ব্যাংক শাখায়। প্রতিটি পাড়া বা মহল্লাতেই বলতে গেলে এখন পাওয়া যায় মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট। ফলে দেশের আর্থিক লেনদেনে এক কথায় বিপ্লব ঘটেছে।

মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহকদের জন্য সুখবর রয়েছে, তা হলো- বিকাশ এবং রকেট সহ মোবাইলে আর্থিক লেনদেনে গ্রাহকদের ওপর নতুন করে চার্জ আরোপের কোনো সুযোগ নেই।

ব্যালেন্স জানতে গ্রাহকদের ৪০ পয়সা করে কাটা হবে এমন খবরের প্রকাশের একদিন পর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে জানায়, ‘গ্রাহকের নতুন করে চার্জ নেওয়া যাবে না। এই টাকা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে।’

আজ মঙ্গলবার (১৮ জুন) বিটিআরসি থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে- এমএফএস এর ব্যালান্স দেখতে গ্রাহককে কোনো টাকা গুনতে হবে না।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন জানায়, গত ১৩ জুন তারা যে নির্দেশনা জারি করে তাতে বলা হয়েছে গ্রাহকের ওপর নতুন করে চার্জ আরোপরে কোন সুযোগ নেই।

প্রতিবার লেনদেন সম্পন্ন হওয়া কিংবা ব্যালান্স দেখার জন্য গ্রাহকেরা নির্দিষ্ট নম্বর ডায়াল করার পর ফিরতি ক্ষুদে বার্তা পান। এটাকে বল হয়- আনস্ট্রাকচারড সাপ্লিমেন্টারি সার্ভিস ডেটা বা ইউএসএসডি। এর মাধ্যমে মূলত আর্থিক লেনদেন ছাড়া ব্যালান্স দেখার কাজই করেন গ্রাহক।

বিটিআরসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে একটি আর্থিক লেনদেন হলে এ জন্য মোবাইল ফোন অপারেটররা ৮৫ পয়সা পাবে। এছাড়া আর্থিক লেনদেন ছাড়া অন্য কাজের জন্য প্রতিবার ৪০ পয়সা দিতে হবে। এই ৪০ পয়সা কি গ্রাহক দেবে না সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দেবে তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা ছিল না।

তবে আজ নির্দেশনা জারি করল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি।

এ বিষয়ে বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশন শামসুদ্দিন হায়দার বলেন, ‘নির্দেশনার বিষয়টি আমরা জেনেছি। এখনও বিভিন্ন পর্যায়ে এটি নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে। এর আগে গ্রাহককে নতুন করে কোনো টাকা গুনতে হবে না।’ এমনটাই বলেন তিনি।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সিনিয়র সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন খান স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রাহক কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।