ধর্ষণের শাস্তি যাবজ্জীবনের পরিবর্তে ক্রসফায়ার করা হোক

ফেসবুক বা পত্রিকার পাতা ওপেন করলেই প্রতিদিন কোনো একটা লোমহর্ষক ঘটনা দেখতে হয়। সিংহভাগ ঘটনা আমাদের প্রজন্মের মধ্যে। শিশু থেকে যুবক-যুবতীর মধ্যে ঘটনার প্রভাবটা বেশি। প্রকাশ্যে দিবালোকে কূপিয়ে হত্যা, ধর্ষণ এগুলো দেখতে দেখতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। বরগুনায় রিফাত হত্যার শোক জাতি ভুলতে না ভুলতেই ঢাকার ওয়ারিতে সায়মা নামের ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। কী অপরাধ ছিলো নিষ্পাপ এই শিশুর? কোন অপরাধে তাকে তাকে অকালে হায়েনার হিংস্র ছুবলে জীবন দিতে হলো?

সংবাদ পত্রের তথ্য অনুযায়ী বিগত ৬ মাসে বাংলাদেশে ধর্ষণ হয়েছে ৩৯৯ জন। এসব ঘটনা একজন বিবেকবান মানুষের কলিজায় বিষাক্ত তীরের মতো আঘাত করে। ধর্ষিতার পরিবার বেঁচে থেকেও মৃতের মতো বোবা চিৎকার করে। তাদের আর্তনাদ বিধার আরশে পৌঁছালেও বাংলার জমিনে আইনের বেড়াজালে আটকে পরে তারা উপযুক্ত বিচারটুকুও পান না। সভ্য সমাজের মানুষরা দিন দিন অরণ্যের হিংস্র জানোয়ারের মতো আচরণ করছে। মানুষকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে।
নিষিদ্ধ উল্লাসে মেতে উঠছে মানুষ হত্যা করে। ধর্ষণ করে। মনুষত্বের চোখে কাঠের চশমা পরে মানুষ আজ দিশেহারা। সভ্যতার উচ্চ শিখরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে আজ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। প্রচলিত আইনও মানুষকে অপরাধ থেকে বিরত রাখতে পারেনি। যা আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও আইনের অনুশাসনের অনুপস্থিতির ফল। যারা আইন প্রয়োগ করেন তারাও আজ ঘৃণ্য ও বর্বরোচিত অপরাধের সাথে জড়িত। অপরাধীদেরকে বাঁচার সুযোগ করে দিচ্ছেন অর্থের বিনিময়ে।

মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, স্কুল কলেজ মাদ্রাসার শিক্ষক থেকে শুরু করে আইন প্রয়োগকারীরাও আজ ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য ও বর্বরোচিত অপরাধ করছে। উল্লাসে উচ্ছ্বাসে মানুষ আজ নিজের কামকে উপভোগ করতে গিয়ে যতসব অপরাধ করছে তা মানুষকে মানুষের পর্যায় থেকে বিভক্ত করে ফেলছে। আইনের কঠোর বাঁধ মানুষকে আজ ধর্ষণ থেকে রক্ষা করতে পারছেনা। মানুষের বিবেক থেকে অনুভিত ধারণাগুলো প্রচলিত প্রথা থেকে বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী নিয়ম-নীতির রূপ ধারণ করে আইনে পরিণত হয়েছে। সময়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ও অপরাধের বিষয় বিবেচনা করে নতুন নতুন আইন তৈরী করা হচ্ছে। সংশোধন হচ্ছে।

প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষ আজ তাদের স্বাধীন মত প্রকাশের উত্তম মাধ্যম হিসেবে ফেসবুককে কাজে লাগিয়েছে।
দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি থেকে শুরু করে আইন ও অপরাধের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, সমালোচনা ও মতামত প্রকাশ করছেন। বহুদিন থেকে ধর্ষণের শাস্তি নিয়ে মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। বর্তমানে প্রচলিত “নারী ও শিশু নির্যাতন আইন”-২০০০
এর ধারা ৯ (১) এ ধর্ষণের শাস্তি রাখা হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদন্ড। কিন্তু এ আইন থাকা সত্ত্বেও ধর্ষণ ঠেকানো সম্ভব হচ্ছেনা। অহরহ ধর্ষণ চলছেই। দেশের মানুষের ধারণা ধর্ষণকারীর শাস্তি হওয়া উচিত “প্রকাশ্যে জনসম্মুখে ক্রসফায়ার করে মেরা ফেলা।” দেশের বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা ও আইনের অনুশাসনের অভাবে অনেক ধর্ষণকারী তাদের শাস্তি থেকে ফাঁড় পেয়ে যায়। তাই ক্রসফায়ারে মতো ভয়ঙ্কর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি “নারী ও শিশু নির্যাতন আইন, ২০০০” এ প্রতিস্থাপন বা সংশোধনীতে আনলে দেশে ধর্ষণের মতো লোমহর্ষক ঘটনা কমার সম্ভাবনা আছে।

আমরা সাধারণ মানুষ শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ষণের শাস্তি নিয়ে লিখলেই মনে করি আইন সংশোধন হয়ে যাবে। কিন্তু না। আইন সংশোধন বা তৈরী করতে লিখার পাশাপাশি আমাদেরকে আরও কিছু কাজ করা জরুরী। আমাদের কথা সাধারণত আইনসভা শুনবেনা। আইন তৈরী বা সংশোধনের ক্ষমতা একমাত্র আইন সভার সদস্যদের। আইন সভার সদস্যরা তো আমাদের-ই নির্বাচিত প্রতিনিধি। দেশে নির্বাচিত ৩০০ ও সংরক্ষিত ৫০ জন মহিলা সদস্যসহ ৩৫০জন সদস্য তো আমাদের কারো না কারো এলাকার প্রতিনিধি। আমরা ফেসবুকের পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকার সংসদ সদস্যের কাছে লিখিতভাবে ধর্ষণের শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পরিবর্তে “ক্রসফায়ার” প্রতিস্থাপন করার জন্য উনারা যাতে বিষয়টি সংসদে প্রস্তাব রাখেন সেটি লিখিতভাবে উনাদেরকে অবহিত করতে পারি।

উনারা তো আমাদেরই প্রতিনিধি। আমাদের প্রতিনিধিত্ব করা ও আমাদের কল্যাণের জন্য আইন তৈরী করার জন্যই তো সংসদে গিয়েছেন। আমার বিশ্বাস আমরা সকলেই নিজ নিজ উদ্যোগে আমাদের নিজের এলাকার প্রতিনিধির কাছে আমরা লিখিতভাবে প্রস্তাবটি দিলে কোনো একজন সংসদে উত্থান করবেন। আজ যে বা যারা ধর্ষিত হয়েছেন বা হচ্ছেন তারা নিশ্চই কারো মা, মেয়ে কিংবা বোন। এই সমাজে আপনার আমার বোন বা মেয়ে কতটুকু নিরাপদ আপনিই ভাবুন! আপনার বোন/মেয়ে এই ঘৃণ্য বর্বরোচিত হামলার শিকার হওয়ার আগে আপনাকেই সোচ্চার হতে হবে।
তাই আমার অনুরোধ থাকবে আমার লেখাটি যে-ই পড়বেন নিজের, সমাজের, দশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে
লেখাটি শেয়ার করবেন। পরিশেষে আবারও অনুরোধ করছি, আপনারা নিজ নিজ এলাকার সংসদ সদস্যকে ধর্ষণের শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পরিবর্তে “ক্রসফায়ার” কে প্রতিস্থাপন করার জন্য মহান জাতীয় সংসদে যেন প্রস্তাব রাখেন এই অনুরোধটুকু করুন।

আজিজুল ইসলাম আজিজ
এলএল.বি ( অনার্স )
সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।