জুয়েল – আনোয়ার কারাগারে, জামিন নেননি দিরাই’র ইউপি চেয়ারম্যান সৌম্য চৌধুরী

বিশেষ সংবাদদাতাঃ
সিলেটে একটি ছিনতাই মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গেলে
দিরাই রাজানগর গ্রামের বাসিন্দা যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম
জুয়েল এবং আনোয়ার হোসেন কে আদালত জামিন না দিয়ে
কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন। সোমবার সিলেট
আদালত এ আদেশ দেন। একই মামলার অপর আসামী ইউপি
চেয়ারম্যান সৌম্য চৌধুরী জামিনের আবেদন করেনি।
জানা যায়, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের
আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান সৌম্য চৌধুরী ও
আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রতিদ্বন্ধী চেয়ারম্যান
প্রার্থী জুয়েল কে সিলেট কতোয়ালি মডেল থানায় একটি
মামলায় আসামী করা হয়। জুয়েল সৌম্য চৌধুরীর বিরুদ্ধে
দুর্নীতির অভিযোগ এনে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে
অভিযোগ দাখিল করেছিলেন হঠাৎ করে দুইজন একই মামলায়
আসামী হওয়ায় এলাকার আলোচনার ঝড় বইছে। মামলার বাদী
দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামের সুধাংশু
শেখর তালুকদার। এ মামলায় সিলেট আল-হামরা শপিং সিটির দিরাই
শ্যামলী জুয়েলার্স এর মালিক দিরাই উপজেলার রাজানগর
ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামের আনোয়ার হোসেন, সৈয়দ
হোসেন, হাফিজ ও সিলেট মদীনা মার্কেটের ফারুক
হোসেন তালুকদারকে আসামী করা হয়েছে। মামলা নং ৬১
তারিখ ২৮ জুন ২০১৯ খ্রি:।
মামলা এজাহার থেকে জানা যায়, বাদী এবং বিবাদী পূর্ব পরিচিত
সে হিসেবে মামলার ১নং আসামী আনোয়ার হোসেন তার
ব্যবসার জন্য ৯ জুলাই ২০১৫ সালে সুধাশু শেখর তালুকদার কে
দিরাই শ্যামলী জুয়েলার্স একাউন্ট নং ০৯১১১০০০০৩৬৮৯ চেক
নং-১৯৭৫৮২৬ তারিখ ০১ জানুয়ারি ২০১৯ এক্সিম ব্যাংক সিলেট মূলে
১৯ লাখ ১৮ হাজার টাকা প্রদান করেন। সুধাশু শেখর তালুকদার ২০
মে ২০১৯ ইং তারিখ উক্ত চেক নগদায়নের জন্য নিজ হিসাব নং
এনআরবি ব্যাংক সিলেট শাখায় উপস্থাপন করলে ব্যাংক চেকটি
ডিজঅনার করে। ২৯ মে আইনজীবির মাধ্যমে ১নং
আসামীকে উকিল নোটিশ পাঠালে তিনি ১৬ জুন নোটিশের
জবাব দেন।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ২৬ জুন আনোয়ার
হোসেন ও ফারুক হোসেন আমাকে কাজলশাহ সিটি
হোটেলের সামন থেকে জোর করে একটি সিএনজিতে
তুলে অস্ত্র ঠেকিয়ে ৫-৬ টি মোটর সাইকেল সহ মদন
মোহন কলেজের গলির ভেতর নিয়া যায়। সেখানে আসামী
জুয়েল বুকে পিস্তল ধরে এবং আনোয়ার হোসেন বাদীর
প্যান্টের পকেট থেকে ১০ হাজার ২শ সত্তর টাকা নিয়ে যায়।
জুয়েল মিয়া আমাকে জোর পূর্বক রাজানগর ইউনিয়নের
চেয়ারম্যান সৌম্য চৌধুরীর সাথে কথা বলায়। সৌম্য চৌধুরী
ফোনে আমাকে ভয় ভীতি প্রদর্শন করে চেক ফেরৎ
দিতে বলে নতুবা আমাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি প্রদান
করেন। এসময় অন্যান্য আসামীরা আমাকে কিল ঘুসি মেরে
মারাত্মক জখম করে। পরে আমি বাসায় গিয়ে আমার আত্মীয়
স্বজনের সাথে কথা বলে সিলেট কতোয়ালি মডেল থানায়
একটি মামলা দায়ের করি। মদন মোহন কলেজের পোস্ট
অফিস গলির সরষপুর রাস্তার আশে পাশে সিসি ক্যামেরা
পর্যবেক্ষণ করলে এর সত্যতা পাওয়া যাবে বলে মামলায়
উল্লেখ করা হয়। সুধাংশু শেখর তালুকদার জানান, আসামীরা
শক্তিশালী হওয়ায় তিনি প্রতি মুহুর্তে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে
আছেন। আসামীরা যে কোন সময় তাকে আবার অপহরণ
করতে পারে। তিনি তার নিরাপত্তা ও টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের
সহযোগিতা কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান সৌম্য
চৌধুরী বলেন ঘটনার দিন আমার মোবাইল ফোনটি বন্ধ ছিল,
আমাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত
ভাবে মিথ্যা মামলায় আমাকে আসামী করা হয়েছে।
জহিরুল ইসলাম জুয়েল বলেন সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণেই
আমাকে মিথ্যা মামলা ফাঁসানো হয়েছে, আমি আইনী ভাবেই
ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার মোকাবেলা করবো।
প্রসঙ্গত গত ৫ জুলাই মামলা প্রত্যাহার দাবীতে মানববন্ধন
করে ইউনিয়নবাসী।