ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত গোয়াইনঘাট; যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি :: সিলেটের গোয়াইনঘাটে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় প্রায় সবকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলসহ উপজেলার সিংহ ভাগ এলাকার মানুষ পানি বন্ধী হয়ে পড়েছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে গোয়াইনঘাটের পিয়াইন,সারী এবং গোয়াইন অববাহিকায় নদ-নদীর পানির বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

২দিন থেকে টানা ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যায় জেলা সদরের সাথে গোয়াইনঘাটের যোগাযোগ রক্ষাকারী সিলেট, সারী গোয়াইনঘাট সড়ক, সিলেট সালুটিকর গোয়াইনঘাট সড়কসহ সবকটি সড়কেই কোথাও হাটু পানি কোথাও কোমর পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। আকষ্কিক বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় গোয়াইনঘাটের প্রায় সবকটি এলাকায় বিদ্যালয় সমূহ পানি বন্ধী হয়ে পড়েছে। যার ফলে পড়ায় অঘোষিত ভাবে বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।

বিপদ সীমার উপর দিয়ে নদ-নদীর পানি প্রবাহিত হওয়ায় জাফলং, বিছনাকান্দিসহ কোয়ারী এলাকাগুলোতে পাথর,বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চল ও হাওর এলাকায় পানি বন্ধী মানুষের দূর্ভোগ হাহাকার মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সারীঘাট পয়েন্টে সারী নদীর পানি বিপদ সীমার ১১.৭৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সকাল ৬টায় ১২.৩০ মিটার এবং সকাল ৯টায় ১২.১৯ মিটার বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। জাফলং পয়েন্টে পিয়াইন নদীর পানি সকাল ৬টায় ১২.৯৭ মিটার  এবং ৯টায় ১২.৭৩ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গোয়াইনঘাটের জাফলংয়ে বৃহস্পতিবার সকালে মোট বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১২৯ মি.মি.।

গোয়াইনঘাটের বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, আকষ্কিক পাহাড়ি ঢলে বন্যায় পানি বন্ধী হয়ে মারাত্মক দূর্ভোগ ও ভোগান্তির স্বীকার হয়েছেন তারা। বেশিরভাগ মানুষই ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। পানিবন্দি এলাকায় জরুরী ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্দের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে প্রায় সবকটি ইউনিয়নের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা জানান।

এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত কুমার পাল বলেন, গোয়াইনঘাটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন সমূহের মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ৬টি ইউনিয়নের জন্য এখন পর্যন্ত ৬ মেট্রিকটন চাউল দেওয়া হয়েছে। আরো ত্রাণ চাওয়া হয়েছে। ত্রাণ হাতে এসে পৌঁছালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দেওয়া হবে।