গোলাপগঞ্জে ঢাকাদক্ষিন সরকারী ডিগ্রি কলেজ শিক্ষকদের ইউএনও বরাবরে ছাত্রদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

গোলাপগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি।।  গোলাপগঞ্জে ঢাকাদক্ষিণ সরকারী ডিগ্রী কলেজের কিছু সংখ্যক উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি, টিউশন ফি, পরীক্ষার ফির টাকা জোরপূর্বক হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেশ কিছুদিন থেকে উচ্ছৃঙ্খল ছাত্রদের দমিয়ে রাখার জন্য সাবেক কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য ও জনপ্রতিনিধি বৈঠক করলেও তাদের উশৃঙ্খল চলাচল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভীতির কারণ হয়ে দাড়িঁয়েছে। সর্বশেষ এর সমাধান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে কলেজ শিক্ষকরা অধ্যক্ষ অনুরঞ্জন দাস স্বাক্ষরিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী মোহাম্মদ মামুনুর রহমান বরাবরে অভিযোদ প্রদান করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকে কলেজের কতিপয় বতর্মান ও প্রাক্তন ছাত্র তানভির, ফরিদ, মারুফ ও নাসিম কলেজে বিগত ৩/ ৪ বছর থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি ফি, টিউশন, সেশন ফি, ফরম পূরন ফিসহ পরীক্ষার ফি’র অধিকাংশই জোরপূর্বক হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা শিক্ষার্থীদের ভয় দেখিয়ে কলেজে আসার পথেই ফাইলপত্রসহ ফি এর টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিসহ গভর্নিং বডির প্রাক্তন সদস্যদেরকে নিয়ে বার বার প্রতিকারের চেষ্টা করলেও কোন সুরাহা আসেনি। চলতি ডিগ্রী (পাস) তৃতীয় বর্ষের ফরম পূরর্ণের পূর্বে কলেজের প্রাক্তন কয়েকজন গর্ভনিং বডির সদস্যসহ বর্তমান উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মনসুর আহমদকে গত ৩০ জুন অভিযুক্তদের নিয়ে মিটিং করার পরেও তাদেরকে থামানো যায়নি। তাদের বেআইনী কাজের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষ সহ কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী বৃন্দ প্রতিবাদ করলে তারা তাদের সাথে অত্যান্ত অশুভ আচরণ করে এবং বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদান করে। এতে শিক্ষকগন সহ কর্মচারীবৃন্দ চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছেন বলে অভিযুগ পত্রে উল্লেখ করেন। তাছাড়া অভিযুক্তরা চলিত ডিগ্রি (পাস) ৩য় বর্ষের ফরম পূরণ কার্যক্রম জোর পূর্বক বন্ধ করে দিয়েছে। তারা অফিস সহকারীদের হুমকি দিয়ে বলে ফরম পূরনের কাজ করলে তাঁদের হাত ভেঙ্গে দেবে। তৎক্ষনাত কলেজ কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের কারন জানতে চাইলে তারা অবৈধ আর্থিক সুবিধা দাবী করে। তাদের দাবী না মানলে ফরম পূরন করতে দেয়া হবেনা বলে শাসিয়ে যায়। উল্লেখ্য কলেজ কর্তৃক ডিগ্রি (পাস) ৩য় বর্ষের ফরম পূরনের সর্বশেষ তারিখ আগামী ১৩ জুলাই ২০১৯ ইং পর্যন্ত। আশংকা রয়েছে উক্ত তারিখের মধ্যে শিক্ষার্থীরা ফরম পূরন করতে না পারলে চুড়ান্ত পরীক্ষা অংশ গ্রহন করতে পারবেনা। অভিযোগপত্রে শিক্ষক গন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা চেয়াম্যানের কাছে প্রতিকার চেয়েছেন শিক্ষক কর্মচারীদের নিরাপত্তা, যাবতীয় ফি সম্পূর্ণভাবে আদায়ের যথাযত ব্যবস্থা, এবং শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতা প্রদানসহ প্রায় স্থবির হয়ে যাওয়া শিক্ষাকার্যক্রম সচল করার আশু পদক্ষেপ কামনা করেন।
জানতে চাইলে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্য মিজানুর রহমান বলেন, ইউএনও মহোদয় আমাকে বলেছেন এবং অভিযোগপত্রের একটি কপিও আমাকে দিয়েছেন আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব। ঢাকাদক্ষিন ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ অনুরঞ্জন দাসের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন থেকে আমরা এ সমস্যায় জর্জরিত। বিহত দিনে কয়েকবার ইউএনও মহোদয়ের কাছে মৌখিকভাবে অবগত করি। সর্বশেষ আমরা ছাত্রদের অচ্ছৃঙ্খলতায় অতিষ্ট হয়ে লিখিত অভিযোগ করলাম। কলেজের স্বাভাবিক পরিবেম একেবারে বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গোলাপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধূরী সরকারী কলেজ শিক্ষকদের অভিযোগপত্র পেয়েছেন সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষধদে মাসিক সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে আশু সমাধানে ইউএনও সহ আমরা ব্যবস্থা নিব। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মামুনুর রহমান অভিযোগ পত্রের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা গোলাপগঞ্জ মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্যকে বলে দিছি উনি ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। এবং অধ্যক্ষ স্যারকে বলেছি প্রয়োজনে মামলা করতে।