জমিয়তকে মায়নাস করে ভারতবর্ষের ইতিহাস রচিত সম্ভব নয়; জমিয়ত নেতৃবৃন্দ

আবু তালহা তুফায়েল :: শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ সর্বদা দেশ, ধর্ম, জাতি ও সু-শিক্ষার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে, তাদের পক্ষে মাঠে মঞ্চে কথা বলছে। জমিয়তের বিরল ইতিহাস রয়েছে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে মায়নাস করে গোটা বারতবর্ষে ইতিহাস রচিত করা সম্ভব নয়। আর যদি কেউ করে থাকে, তাহলে সেটা হবে অসম্পূর্ণ ইতিহাস। জমিয়তের অবধানকে বাদ দিয়ে স্বয়ং সম্পূর্ণ ইতিহাস কখনো হতেই পারেনা। ভারতবর্ষকে ব্রিটিশদের কাছ থেকে মুক্ত করে জমিয়ত।

১৮ জুলাই (বৃহস্পতি) দুপুর ২ ঘটিকা থেকে গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ গোয়াইনঘাট উপজেলা শাখার উদ্যোগে- গোয়াইনঘাটের সদ্য দাওরায়ে হাফীস (মাস্টার্স) সম্পন্নকারীদের কৃতি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন জমিয়ত নেতৃবৃন্দ।

গোয়াইনঘাট উপজেলা ছাত্র জমিয়ত’র সভাপতি হাফিজ জাকির হুসাইনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি (ভারপ্রাপ্ত) সুলতান মাহমুদ ও হাফিজ সুহাইলের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক শায়খুল হাদীস আতাউর রহমান।

আতাউর রহমান বলেন: রাজনীতির ময়দান ছেড়ে দিলে সেই স্পেনের মত আমাদের ও করুণ অবস্থা হবে। আমরা আমাদের সঠিক আদর্শের উত্তরসূরি; আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী, শেখ আব্দুল্লাহ হরিপুরী, আল্লামা আব্দুল করিম ছত্রপুরি রহঃ তাদের সঠিক আদর্শকে লালন করে রাজনীতি করছি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক ছত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সভাপতি বর্তমান কেন্দ্রীয় জমিয়তের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি নাসির উদ্দিন খাঁন বলেন: জমিয়তের ইতিহাস ঐতিহ্য পৃথিবীর বুকে স্বর্ণাক্ষরে বিরল থাকবে। বর্তমানেও দেশ জাতির কল্যাণে জমিয়ত লড়ে যাচ্ছে। তিনি একপর্যায়ে বলেন জমিয়তের শক্তি ও নেতৃত্বের নজির পৃথিবীর বুকে অন্যকোনো রাজনৈতিক দলের নেই। তিনি ব্রিটিশ বিরোধী থেকে নিয়ে এযাবৎ সব ইতিহাস জনসম্মুখে তোলে ধরেন। তিনি গত বছরের পাকিস্তান জমিয়তের ১শ বছর পূর্তি ওনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে বলেন, তিন দিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠানে ক্বায়্যিদে জমিয়ত আল্লামা ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে যে ব্যাপক অনুষ্ঠান উপহার দিয়েছেন, তা কোনো রাজনৈতিক দল এর রেকর্ড ভাঙতে পারবেনা। ৩দিনের মধ্যে জুম’আর দিনের নামাজে ৬০ লক্ষ জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে খৃষ্টান পাদ্রি ও জমিয়ত ও ফজলুর রহমানের গুণগান গেয়েছিলো প্রায় ১৭ মিনিট।
পাকিস্তানে জমিয়তের প্রভাব তোলে ধরার পর ভারত জমিয়তের কথা উল্লেখ করেন, সেখানে আসাম রাজ্যে লক্ষ লক্ষ জনগণের ভোটার কার্ড ও নাগরিকত্ব কার্ড ফিরিয়ে দিতে মোদি সরকার বাধ্য হয়েছিলো এই জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের কারণে। জমিয়তের সদর আওলাদে রাসূল আরশাদ মাদানি দাঃবাঃ এই মামলা করেন।
তিনি ভারতের পর বাংলাদেশের ও অবস্থা তোলে ধরেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় জমিয়তের প্রচার সম্পাদক মাওলানা জয়নাল আবেদীন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান তৈয়বুর রহমান চৌধুরী, গোয়াইনঘাট উপজেলা জমিয়তের সভাপতি আব্দুল আজিজ, গোয়াইনঘাট উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম আম্বিয়া কয়েছ, উপজেলা জমিয়তের সহ-সভাপতি হাফিজ তাজুল ইসলাম, উপজেলা জমিয়তের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল মতিন।

জমিয়ত নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে দাবী জানান, পাঠ্যবই থেকে ‘বিবর্তনবাদ’ বাদ দিতে হবে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে মুসলিম নিধন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
ভারতবর্ষের প্রায় ৭শ বছরের মুসলিম শাসনামলে ১জন হিন্দুকেও কোনো মুসলাম আঘাত করেনি বা কোনো ধরণের সমস্যায় জর্জরিত করেনি।
তাছাড়া তারা এসব কথা উল্লেখ করে বলেন, আজ দেশে প্রকাশ্যে খুন হত্য ও ৬ বছরের শিশু থেকে নিয়ে ৬০ বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত ধর্ষণ এবং এসিড নিক্ষেপ, আগুনে পুড়িয়ে মারাসহ ব্যাংক লুটপাট আটকাতে একমাত্র কুরানি শাসন বাস্তবায়নের প্রয়োজন। মন্ত্রী আর এমপিদের লম্বা লম্বা লেকচার প্রিন্ট মিডিয়ার শিরোনামে ভাসিয়ে তোল্লেও কোনো ফায়দা হবেনা, যদি তাদের পায়ে লাগাম দেয়া না যায়। আর এসব দূর করতে হুদুদ, ক্বেসাস অর্থাৎ কুরান হাদীসের শরীয়াহ বাস্তবায়ন করতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মাওলানা রফিক আহমদ, নেছার, ডা. আবুল খয়ের, ছিফাত উল্লাহ, আব্দুল করিম দিলদার, আজিজুর রহমান, শামিম রশিদ আহমদ, জিয়াউর রহমান, তাজ উদ্দিন, রায়হান উদ্দিন, মাহদী হাসান মিনহাজ, আবুল হাসানাত, বদরুল আলম, মাসুক আহমদ, মুহসিন আহমদ, অলীউর রহমানসহ জমিয়ত, যুব জমিয়ত ও ছাত্র জমিয়তের নেতৃবৃন্দ।

পরিশেষে জমিয়তের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের হাত থেকে সদ্য দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স) সম্পন্নকারী কৃতি ছাত্ররা সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহণ করেন। এবং জমিয়ত নেতৃবৃন্দরা তাদেরকে জমিয়তি শুভেচ্ছা জানান।