ভারতীয় গণমাধ্যম যেভাবে দেখছে পিয়া সাহার অভিযোগ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ নিয়ে ভয়ংকর মিথ্যাচার করেছেন বাংলাদেশি নারী প্রিয়া সাহা। সে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক। এ নিয়ে সরকারের উচ্চ মহল থেকে শুরু করে দেশের সকল মানুষের মধ্যে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। একই সাথে প্রিয়ার সাহার এই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের সঙ্গী হওয়ায় তার স্বামী মলয় সাহাকেও অতিদ্রুত চাকুরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে সরকারের প্রতি।

আমাদের প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারত প্রিয়া সাহার বাংলাদেশ বিরোধী অবস্থানকে কিভাবে দেখছেন, তাই এখন দেশবাসীর আগ্রহ। বিশ্ব যেখানে বাংলাদেশকে ভিন্নমতাবলম্বীদের মিলন মেলার দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকে। সেখানে নিজ দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য প্রিয়া সাহা কিভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে গুরুতর অভিযোগ করছে?

বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম জিনিউজ একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। বিডি২৪লাইভের পাঠকদের জন্য খবরটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

“মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপরে অত্যাচারের কথা শোনালেন সেদেশের এক সংখ্যালঘু সংগঠনের নেত্রী প্রিয়া সাহা। সাক্ষাতের সেই ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ হতেই তোলপাড় দেশ।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে কী অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ইউনিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি প্রিয়া সাহা? প্রিয়া অভিযোগ করেছেন, ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ বাংলাদেশ থেকে নিখেঁজ হয়ে গিয়েছেন। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা বাংলাদেশেই থাকতে চাই।

প্রিয়া সাহা ট্রাম্পকে আরও জানান, এখনও বাংলাদেশে রয়েছেন ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু। এদেশে টিকে থাকতে আমাদের সাহায্য করুন।আমার কোনও ঘর নেই। আমার ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে ওরা। আমার জমিজমা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কোনও বিচার পাইনি।

সব শুনে ট্রাম্প প্রশ্ন করেন, আপনাদের ঘরবাড়ি, জমিজমা কে কেড়ে নিয়েছে? প্রিয়া সাহা বলেন, এসব করেছে মুসলিম মৌলবাদীরা। যে কোনও অপরাধ করার পর রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়ে যাচ্ছে এরা।

এদিকে, প্রিয়ার ওই মন্তব্যের দায়িত্ন নিতে রাজি নয় তারই সংগঠন। মাইনোরিটি কাউন্সিলের প্রধান রানা রানা দাসগুপ্ত বলেন, প্রিয়ার ওই মন্তব্য তার নিজস্ব। এর ব্যাখ্যা তিনিই দিতে পারবেন। অন্যদিকে দেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, দেশের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ একেবার মিথ্যে। উনি কেন এরকম মন্তব্য করলেন তা খতিয়ে দেখা হবে।