১০ নিউজ পোর্টাল ৬০ ফেসবুক পেজ, ২৫ ইউটিউব চ্যানেল বন্ধ

পদ্মা সেতু নিয়ে যে চলমান গুজব ও গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে এসব রোধে আগামীকাল থেকে দেশব্যাপী সচেতনতা সপ্তাহ ঘোষণা করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। গুজব ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত ৬০টি ফেসবুক লিংক ও ২৫টি ইউটিউব লিংক এবং ১০টি নিউজ পোর্টাল বন্ধ করা হয়েছে। এই সমস্ত ফেসবুক লিংক ও ইউটিউব লিংক এর মাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ানো হচ্ছিল।

বুধবার (২৪ জুলাই) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী এই কথা জানান।

তিনি বলেন, এর আগে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়ে, আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই গুজব ছড়িয়েছে। এটা দেশ ও দেশের বাইরে থেকে করা হয়েছে। কারণ এর মাধ্যমে উস্কে দিয়ে আড়ালে থাকা যায়।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের কোনো ছাড় নয়। যেই হোক আইনের আওতায় নেওয়া হবে এবং সেটা শুরু হয়েছে।

গণপিটুনিতে কেউ মারা গেলে হত্যা মামলার আসামি হতে হবে মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, নিশ্চয় কেউ হত্যা মামলার আসামি হতে চাইবে না। কোনো সন্দেহ হলে ৯৯৯ এ ফোন দিতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘এ পর্যন্ত যে ক’জনকে গ্রেফতার করেছি, তাদের কয়েকজনের পরিচয় খুঁজতে গিয়ে সরকারবিরোধী রাজনীতি করার লিংক আমরা খুঁজে পাচ্ছি।’ গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সরকারপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতেই এ ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘সকল আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে এই সহজ পথটি, অর্থাৎ ফেসবুকে বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ছড়ানোকে বেছে নিয়েছে।’

পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে ‘মানুষের মাথা লাগবে’ বলে সম্প্রতি ফেসবুকে গুজব ছড়ানো হয়, যাতে বিভ্রান্ত না হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল সরকার। গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়।

আইজিপি বলেন, ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে এ পর্যন্ত ৮ জন নিহত হয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের কেউ ছেলেধরা ছিলেন না।

তিনি আরও বলেন, সারাদেশ থেকে ৩১ মামলায় ১০৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এদের অনেকই সরকারবিরোধী।