খাবারে চেতনানাশক ঔষুধ কুলাউড়ায় প্রবীণ শিক্ষক ও তাঁর স্ত্রীকে অজ্ঞান করে চলে গেল গৃহপরিচারিকা!

প্রকাশিত: ৪:০৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০২০

খাবারে চেতনানাশক ঔষুধ কুলাউড়ায় প্রবীণ শিক্ষক ও তাঁর স্ত্রীকে অজ্ঞান করে চলে গেল গৃহপরিচারিকা!

কুলাউড়া প্রতিনিধি::  কুলাউড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যপীঠ নবীন চন্দ্র সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল বাছিত চৌধুরীসহ তাঁর স্ত্রীকে অজ্ঞান অবস্থায় শহরস্থ বাসা থেকে শুক্রবার সন্ধায় উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা আশংকাজনক অবস্থায় তাঁদের কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে প্রেরণ করেন।

স্থানীয় সূত্রমতে, কুলাউড়া পৌরশহরের ৩নং ওয়াডের উত্তরবাজারে বাসায় শিক্ষক আব্দুল বাছিত চৌধুরী (৮০) ও তাঁর স্ত্রী খালেদা বেগম চৌধুরী (৬৫) তারা দু’জন একা বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার কাজের জন্য এক মহিলা (৩৫) তাঁদের বাসায় আশ্রয় নেন। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর তারা দু’জন দুপুরের খাবারের পর অজ্ঞান হন। সন্ধার পূর্বে তাঁদের পাশ্ববর্তী বাসার প্রতিবেশী এক মহিলা তাঁদের বাসায় ভেতরে গিয়ে দেখেন তারা দু’জন বিছানায় অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। এ সময় ওই মহিলা প্রতিবেশী আরেক মহিলাকে দেখে ঘর থেকে দ্রুত বের হয়ে পালিয়ে যায় পরে প্রতিবেশী মহিলা শিক্ষকের স্বজনদের খবর দিলে তারা তাঁদেরকে বাসা থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে সন্ধায় কুলাউড়া হাসপাতালে নিয়ে যান। তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে কুলাউড়া থানার (ওসি) তদন্ত সঞ্জয় চক্রবর্তী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

প্রবীণ এ শিক্ষকের অজ্ঞান হওয়ার খবর শুনে হাসপাতালে ছুটে যান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সফি আহমদ সলমান, পৌর মেয়র শফি আলম ইউনুছ, কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি বদরুজ্জামান সজল, ডা. আবু সাঈদ আব্দুল্লাহ মুকুল, ভাটেরা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ, পৌর কাউন্সিলর মনজুরুল আলম চৌধুরী খোকনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

জানা যায়, এই দম্পতির ছেলে-মেয়েরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। প্রতিবেশীরা জানান,ওই মহিলা বৃহস্পতিবার বিকেলে কাজের কথা বলে শিক্ষকের বাসায় আশ্রয় নেন। শিক্ষকের ছেলে-মেয়েরা দেশের বাইরে থাকায় এই সুযোগে লুটপাটের উদ্দেশ্যে এই বাসায় আশ্রয় নিয়েছে এবং দুপুরে খাবারের সাথে চেতনানাশক ঔষুধ মিশিয়েছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাঁদের সাথে থাকা কাউন্সিলর মনজুরুল আলম চৌধুরী খোকন রাত ৯টা ৫০ মিনিটে মোবাইলে বলেন, আব্দুল বাছিত চৌধুরী স্যারের প্রেসার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। স্ত্রীর অবস্থাও আশঙ্কাজনক। সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাবেদ জিল্লুর বারীর তত্ত্বাবধানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।

কুলাউড়া থানার (ওসি) তদন্ত সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, শুনেছি ওই মহিলা পেশাদার প্রতারক। তার সাথে আরো কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের ধরতে পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে তাঁদেরকে চেতনানাশক ঔষুধ অথবা অন্যকিছু বেশি পরিমাণে খাওয়ানো হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে।

সুরমাভিউ সর্বশেষ সংবাদ